হারানো চিঠি: বহু বছরের অপেক্ষার এক হৃদয়ছোঁয়া গল্প


 

হারানো চিঠির গল্প


গ্রামের নাম ছিল শালবন। ছোট্ট একটি গ্রাম, চারদিকে সবুজ গাছপালা আর পাখির ডাক। সেই গ্রামের এক ছেলে ছিল, নাম রাহাত। বই পড়তে আর গল্প লিখতে তার খুব ভালো লাগত।


একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে রাহাত রাস্তার পাশে একটি পুরোনো খাম দেখতে পেল। খামটি ধুলোয় মাখা ছিল, কিন্তু তার ওপর সুন্দর করে লেখা ছিল, "প্রিয় মায়ের জন্য"।


কৌতূহলবশত রাহাত খামটি খুলল। ভেতরে একটি চিঠি।


চিঠিতে লেখা ছিল,


"মা, আমি শহরে ভালো আছি। তোমার জন্য অনেক কিছু কিনে নিয়ে আসব। তুমি শুধু আমার জন্য দোয়া করো। খুব শিগগিরই বাড়ি ফিরব। তোমার ছেলে, করিম"


চিঠিটি পড়ে রাহাতের মন খারাপ হয়ে গেল। মনে হলো, চিঠিটি কখনো তার গন্তব্যে পৌঁছায়নি।


পরদিন সে গ্রামের প্রবীণ লোকদের কাছে খোঁজ নিতে লাগল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানা গেল, বহু বছর আগে করিম নামে একজন যুবক কাজের জন্য শহরে গিয়েছিলেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় তিনি আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। তার বৃদ্ধ মা অনেক দিন ছেলের অপেক্ষা করেছিলেন।


রাহাত জানতে পারল, সেই মা এখনো বেঁচে আছেন এবং গ্রামের এক কোণে থাকেন।


রাহাত চিঠিটি নিয়ে বৃদ্ধার কাছে গেল। কাঁপা হাতে বৃদ্ধা চিঠিটি পড়লেন। তার চোখে জল চলে এল।


তিনি বললেন, "আমার ছেলে ফিরতে পারেনি, কিন্তু তার শেষ ভালোবাসার কথা আজ আমি জানতে পারলাম।"


সেদিন বৃদ্ধার মুখে এক অদ্ভুত শান্তির হাসি ফুটে উঠেছিল।


রাহাত বুঝতে পারল, কখনো কখনো একটি ছোট্ট চিঠিও বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা কষ্টকে হালকা করে দিতে পারে।


শিক্ষা: ভালোবাসা ও মমতার কোনো সময়সীমা নেই। সত্যিকারের অনুভূতি একদিন না একদিন মানুষের হৃদয়ে পৌঁছেই যায়। 🌿📜✨


লেখক- রহমত উল্লাহ 

Post a Comment

0 Comments